স্বপ্নের শুরু বাংলাদেশের। টাইগারদের স্পিন যাদুর কাঠিতে বধ অস্ট্রেলিয়া

মুখে বলার ভাষা ছিলোনা বাংলাদেশের স্পিন এ্যাটাকের স্পেল গুলো। মেহেদী হাসান। নাসুম আহমেদ। সাকিব আল হাসান। প্রত্যেকেই প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন অজি শিবিরে।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিলো ১৩২ রানের। ওপেন করতে নামেন অ্যালেক্স কেরি ও জোশ ফিলিপ ।  তরুণ মেহেদি হাসানের প্রথম বলেই বোল্ট হন অ্যালেক্স কেরি । নাসুম আহমেদ নিজের চতুর্থ বলে স্টাম্পিং হন জোশ ফিলিপ। দলীয় রান তখন ১০। টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ আক্রমনে আনেন সাকিব আল হাসানকে। এসেই বাজিমাত করে দেন সাকিব। মোজেস হেনরিকসকে তুলে নেন ওভারের প্রথম বলেই। ২ বলে ১ রান করে বোল্ট হন হেনরিকস। ১১ রানেই তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে অস্ট্রেলিয়ার। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিতে থাকেন ম্যাথু ওয়েডে ও মিচেল মার্শ। ৩৮ রানের একটি জুটি গতে উঠে তাদের মধ্যে । দলীয় ৪৯ রানে আবারো আঘাত হনেন নাসুম। লেগ স্টাম্পের একটি বলে সুইপ করতে গেলে অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডের দূর্দান্ত একটি ক্যাচ নেন মোস্তাফিজুর। ৪৯ রান পতন ঘটে চতুর্থ উইকেটের। ২৩ বলে ১৩ রান আসে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। ৪৯ থেকে ৭১ রানে পৌঁছে দেন অ্যাস্টন আগার ও মার্শ। এর পরই নাসুম আহম্মেদের বলে হিট উইকেটের ফাঁদে পড়েন অ্যাস্টন আগার।

শেষ ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিলো ৫০ রানের। বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫ উইকেটের। আবারো জ্বলে উঠে নাসুম । বাংলাদেশের গলার কাটা হয়ে দাড়ানো মিশেল মার্শের ছক্কা হাঁকাতে যাওয়া বাতাসে ভাসা একটি বল বাউন্ডারি থেকে ছুটে এসে ড্রাইভ দিয়ে অবিশ্বাস্য একটি ক্যাচ নেন শরিফুল ইসলাম। ৮৪ রানে ৬ষ্ঠ  উইকেটের পতন ঘটে অস্ট্রেলিয়ার। শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ৩৭ রানের। এমন অবস্থায় বল করতে আসেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। ১০ বলে ৮ রান করা অ্যাস্টন আগার কে তুলে নেন ফিজ।  ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে চলে আসে বাংলাদেশের হাতে। ১২ বলে প্রয়োজন ৩১ রানের। ১৯ তম ওভারে বল করতে আসেন শরিফুল ইসলাম। ঐ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে তুলে নেন ২ টি উইকেট। ২০ ওভারে মোস্তাফিজের ওভারে তুলতে হতো ২৮ রান। তবে মাত্র ৪ রান দিয়ে শেষ উইকেটটি তুলে নিলে ২৩ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।  বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া মোস্তাফিজ ও শরিফুল ২টি এবং সাকিব ও মেহেদী হাসান নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে বড় সংগ্রহ করতে পারেনি বাংলাদেশ।  তেমনভাবে কারোর ব্যাটই জ্বলে উঠেনি। অজি পেসারদের মোকাবেলা করে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৩১ রান করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাল্লা দিতে গেলে বোলিংয়ে ভিন্ন কিছু করে দেখানোর প্রয়োজন ছিলো।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথেউ ওয়েড। ব্যাট হাতে মোহাম্মদ নাঈম প্রথম ওভারে স্টার্কের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে অজি শিবিরে ভয় ধরিয়ে দেন । কিন্তু পরবতীতে পুরো ম্যাচে রানের জন্য লড়াই করতে হয় প্রায় সবাইকে।

নাঈম শুরু করেন স্বাভাবিক ভাবে কিন্তু সৌম্যর থিতু হওয়ার আগেই জশ হেজেলউডের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন। জায়গা করে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন সৌম্য। শরীর তাক করে আসা বল কাট করতে চেয়েছিলেন তিনি; কিন্তু বল আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৯ বলে মাত্র দুই রান করে সাজ ঘরে ফেরেন  সৌম্য।

পাওয়ার প্লেতে ৩৬ বলের ২৩টিই ডট খেলে বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারে চারটি বাউন্ডারি ও দুটি করে ছক্কার সাহায্যে ১ উইকেট মাত্র ৩৩ রান যোগ করে।

রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় বোল্ড হন নাঈম। লেগ স্পিনার জাম্পাকে  রিভার্স সুইপ করে বাউন্ডারি মারতে চেয়েছিলেন নাঈম। ব্যাটে-বলে সংযোগ ভালোভারে করতে না পারাই এলোমেলো হয়ে যায় বেলস। ভাঙে ২২ রানের জুটি। দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ বলে ৩০ রান করে ফেরেন নাঈম।

মন্থর পাওয়ার প্লের পর রানের গতি বাড়াতে পারেনি টাইগাররা।  ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলে মাত্র ৫৮ রান। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব জুটি বেঁধে এগুচ্ছিলেন। কিন্তু লম্বা হয়নি তাদের জুটিও।

ছক্কার মেরেই বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ। এগিয়ে এসে আবারো ছক্কার চেষ্টায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। টাইমিং করতে না পারায় মিড অফ থেকে ছুটে যেয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমান মোইজেস হেনরিকস। ভাঙে ৩৬ রানের জুটি। ২০ বলে এক ছক্কায় ২০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দ্রুত রান তুলতে চেয়েও পারেনি উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহাল। মিচেল মার্শের হাতে  সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। তিনিও বোল্ট আউট হন হেজেলউডের বলে।  স্লোয়ার বল লেগে টেনে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। ব্যাটের কানায় লেগে বেল্ট পড়ে যায়। ৩৩ বলে তিন চারে ৩৬ রান করে আউট  সাকিব। দলীয় সংগ্রহ তখন ১৭ ওভারে ১০৪।

অনেকের চোখ ছিল শামীম পাটোয়ারির দিকে। কিন্তু ঝড় উঠলো না। স্টার্কের কঠিন ইয়ার্কারে উড়ে গেল তার স্টাম্পের বেল। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ বলে ৪ রান। শেষের দিকে আফিফের ব্যাটেই স্টোর কিছুটা লম্বা হয়।  স্টার্কের ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হওয়া আফিফ করেন ১৭ বলে ২৩ রান। মেহেদী হাসান অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হেজেলউড তিনটি, স্টার্ক দুটি এবং জাম্পা ও এন্ডু  টাই নেন একটি করে উইকেট।

এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply