অহংকারের পতন!! অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশের

সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের দরকার ছিলো ১২২ রানের। টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং করে পুরো ২০ ওভার খেলে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্কোর এটিই। এ রেকর্ডটাই বলে দেয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্দশার চিত্র। স্লো উইকেটে এই রানই যে চ্যালেঞ্জিং হবে তা আগের ম্যাচেই আভাগ পাওয়া গিয়েছিলো।

মিচেল স্টার্কের ফুললেংথ বলের গতি বুঝতেই পারেননি সৌম্য। আগে ব্যাট চালিয়ে বলের নাগাল পাপনি। বোল্ট হন তিনি। তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশকে হারাতে হয় প্রথম উইকেট।

এর পর মোহাম্মদ নাঈমকেও ফেরালেন জশ হ্যাজলউড। একটু ফুললেংথ  খেলেন ভুল লাইনে। সৌম্যর মতো বোল্ড হয়েছেন তিনিও।

২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর সাকিব  ও মেহেদি হাসান রানের গতি বাড়াতে থাকেন।  সাকিব পর পর চার মারলে বেসামাল হন অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা।

পাওয়ার প্লে-তে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ২ উইকেটে ৩২ রান। ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশও, তবে তুলেছে একটু বেশী- ৩৮ রান। সাকিব আল হাসান শুরুতে নেমেই মেরেছিলেন তিন বাউন্ডারি, তবে এরপর চুপচাপই ছিলেন তিনি মোটামুটি। অ্যাশটন অ্যাগারের বলে রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন এরপর। টার্ন করা ডেলিভারি মিস করে গিয়েছিলেন, আম্পায়ার মাসুদুর রহমানের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত অবশ্য রিভিউ করেছিলেন সঙ্গে সঙ্গেই। বল ট্র্যাকিং দেখিয়েছে, সেটি মিস করে যেত লেগস্টাম্প।

যেন ভাগ্যকে সঙ্গে করে নিয়েই নেমেছেন মেহেদী হাসান। অ্যাশটন অ্যাগারের দুই ওভারে তিনবার মিসটাইমিংয়ে আকাশে তুলেছেন বল, তবে তিনবারই তিনি বেঁচেছেন ক্যাচ ফিল্ডারের কাছে ঠিকঠাক না যাওয়ায়। অস্ট্রেলিয়ানরা চেষ্টা করেছেন, তবে নাগাল পাননি। অ্যাডাম জাম্পার বলেও একটা তুলে মেরেছিলেন শুরুতে, সেটিও যায়নি ফিল্ডারের কাছে। এরপর টাইমিং শুরু হলে ইনিংসের প্রথম ছয়টাও এসেছে মেহেদীর ব্যাটেই।

অ্যান্ড্রু টাইয়ের বল লাইন মিস করে বোল্ড হন সাকিব। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি ভাঙ্গে এতে। ১৭ বলে ২৬ রান করে ফিরেন সাকিব।

মাহমুদউল্লাহ এসেই আউট হন। অ্যাশটন অ্যাগারের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে শরীর থেকে দূরে ব্যাট চালিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বল ডেকে এনেছেন স্টাম্পে। ৫ বল ও ১ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। কিছুটা চাপে পড়ে টাইগারা।

রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লুর হাত থেকে বেঁচেছিলেন সাকিব। এবার বাঁচেন আফিফও। দুবারই আম্পায়ার ছিলেন মাসুদুর রহমান। মিচেল মার্শের বলটা পড়েছিল লেগস্টাম্পের বাইরে, যদিও বেশ ‘ক্লোজ’ ছিল সেটি।

মেহেদী ফিরে যান ২৩ রান করে, জয় থেকে ৫৫ রান দূরে বাংলাদেশ হারায় ৫ম উইকেট।

শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩৭ রান। আফিফের সঙ্গী নুরুল হাসান।

প্রথমে নুরুল হাসানের ফ্লিক, এরপর আফিফ হোসেনের কাভার ড্রাইভ। মিচেল স্টার্কের ওভারে এ দুটি চারের পর উঠে ১৩ রান। তবে শেষ ২৪ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন এখন ১৮ রান। এর পর আর কোন অঘটন না ঘটিয়ে ৮ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আফিফ ৩১ বলে ৩৭ ও নুরুল হাসান ২১ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে সিরিজে এগিয়ে যেতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ১২১ রানের মধ্যে আটকে রাখে মোস্তাফিজরা। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকে ধীরে-সুস্থে এগিয়েছে তারা। কিন্তু শেষটা সুখের হয়নি তাদের। বাংলাদেশের বোলারদের নিখুঁত বোলিংয়ে খুব অল্প রানই করতে পারে দলটি।

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আলেক্স কেরিকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার মেহেদী হাসান। ২.৩ ওভারে মেহেদীর বলকে ছক্কা হাঁকাতে যেয়ে ক্যাচ উঠে যায় শর্ট লং অফে। আর তা খুব সহজেই তালুবন্দী করেন নাসুম আহমেদ।

এরপর মোস্তাফিজের দুর্দান্ত স্লোয়ার কাটারে অসহায় বোল্ড হন আরেক ওপেনার জশ ফিলিপ। পুল করতে গিয়ে হয়ে যান বোল্ড। ১৪ বলে ১০ রান করে তিনি ফিরেন সাজঘরে।

৩১ রানে দুই উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে তখন পথ দেখানোর দায়িত্ব নেন মার্শ ও হেনরিকস। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৮৮ রান পর্যন্ত। এই জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। বোল্ট করেন ২৫ বলে ৩০ রান করা হেনরিকসকে।

এরপর থেকেই যেন পথ ভুলে যায় অস্ট্রেলিয়া। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকেন। দলীয় ৯৯ রানে আউট হন মিচেল মার্শ। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও তিনি করেন ৪৫ রান। পাঁচটি চার হাঁকালেও তিনি ছক্কা মারতে পারেননি ।

মার্শের বিদায়ের পর আর কোনো ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে পারেননি। ১৮তম ওভারে টানা দুই বলে অজি ক্যাপ্টেন ওয়েড ও অ্যাগারকে তুলে নেন মোস্তাফিজ। টার্নারকে ফেরান শরিফুল। ৭ উইকেটে ১২১ রান করতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

৪ ওভারে ২৩ রানে তিন উইকেট নেন মোস্তাফিজ। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় স্পিনার নাসুম পাননি উইকেটের দেখা।

এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০ তে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ।

Leave a Reply