শুরুতেই জ্বলে উঠলেন ভারতীয় পেসাররা, প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে কোহলিরা
প্রথমে ব্যাট করে ১৮৩ রান করে অল-আউট হয় ইংল্যান্ড। ভারত প্রথম দিন শেষে সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২১। রোহিত শর্মা ও কে এল রাহুল প্রত্যেকে ৯ রানে অপরাজিত আছেন।
টসে হার অব্যাহত বিরাট কোহলীর। ৫ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দেশ সেরা পেসার বুমরা অনবদ্য শুরুতেই। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রোরি বার্নসকে লেগ বিফোর আউট করেন বুমরা। কোনও রান না তুলে প্রথম উইকেট হারায় ইংরেজরা।
দাপটের সঙ্গে শুরু করা ভারতের সামনে ৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭ রান তুলে ইংল্যান্ড। ধীর গতিতে এগোতে থাকে ইংল্যান্ড । ১০ ওভারের শেষে ইংল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে ২২ রান তুলতে সক্ষম হয়। বাইশ গজে লড়তে থাকেন জ্যাক ক্রলি ও ডম সিবলে । ভারতের তিন গতি বোলারের দাপটে ১৫ ওভারে ১ উইকেটে মাত্র ৩৩ রান তুলে জো রুটের দল।
ধীরেসুস্থে দলকে এগিয়ে নেওয়া জ্যাক ক্রলি ২৭ রানে ফিরে যান। ক্রলিকে ডানহাতি ফাস্ট বোলার মহম্মদ সিরাজ ফেরালেও যাবতীয় কৃতিত্ব কিন্তু ঋষভ পন্থের। জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ডিআরএস নিয়ে ডাগ আউটে ফেরাতে সাহায্য করে ঋষভ। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাড়াই ২ উইকেট ৪২ রান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ২ উইকেট হারিয়ে ৬১ রান তুলে ইংল্যান্ড ।
প্রথম টেস্টের প্রথম সেশন ভারতের নামে রইল। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে বিপক্ষের প্রথম উইকেট নিয়েছিলেন যশপ্রীত বুমরা। ইনিংসের ২১.৫ ওভারে জ্যাক ক্রলিকে আউট করে ভারতকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দিলেন মহম্মদ সিরাজ।
মধ্যাহ্নভোজের পরেই বড় সাফল্য পায় ভারত । যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সিরাজের পর এ বার দলকে সাফল্য এনে দেন মহম্মদ শামি। ২৭.৩ ওভারে ফেরান ডম সিবলেকে। শর্ট মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ ধরেন কে এল রাহুল। ৩১ ওভারের শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাড়াই ৩ উইকেট ৭৭ রান।
ভারতের ফাস্ট বোলারদের দাপটে চাপে পড়ে ইংরেজরা। প্রথম ইনিংসে বড় রান গড়ার জন্য সবাই এখন জো রুটের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জনি বেয়ারস্টো।
কিন্তু সে আশা বেশীক্ষন স্থায়ী হয়নি। ১৩৮ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে ইংল্যান্ডের। জনি বেয়ারস্টোকে এলবিডাব্লিউ করে মাঠ ছাড়া করেন মোহম্মদ শামি। এর পরই হুড়মুড়িয়ে গুড়িয়ে যায় ইংরেজদের ইনিংস। একই রানে শুন্য রানে ফেরেন ড্যান লরেন্স। শামির বলে শুন্য রানে ঋষভের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। জস বাটলারও ফেরেন শুন্য রানে। ১৮ বল মোকাবেলা করে বুমরাহর বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাটলার। দলীয় সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ১৪৫। এর পর ইংল্যান্ডের প্রধান ভরসা জো রুটকে ফিরিয়ে দেন শার্দূল ঠাকুর। এলবিডাব্লিও হওয়ার আগে ১০৮ বলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংসে শুন্য রানে আউট হন অলি রবিনসন। শার্দূলের বলে শামির হাতে ক্যাচ দেন রবিনসন। ১৫৫ রান ৮ উইকেটে। দলীয় আরো ৫ রান যোগ করে স্টুয়ার্ট ব্রড প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৪ রান করে। শ্যান কারানের সাথে শেষ উইকেটে ব্যাট করতে থাকেন জেমস অ্যান্ডারসন। দশম উইকেটের জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ২৩ রান। ৯ উইকেটে ১৬০ থেকে ১৮৩ রানে পৌছে দেন দলীয় রান সংখ্যা। ২৭ রান করে অপারাজিত থাকেন স্যাম কারান।
ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ ৪টি মোহম্মদ শামি ৩টি শার্দূল ঠাকুর ২টি ও সিরাজ নেন ১টি উইকেট।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা দলের বাইরে রেখে মাঠে নামেন কোহলিা:
ভারতের প্রথম একাদশ: রোহিত শর্মা, কে এল রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলী, অজিঙ্ক রহাণে, ঋষভ পন্থ, রবীন্দ্র জাডেজা, শার্দূল ঠাকুর, যশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ শামি, মহম্মদ সিরাজ