সালমান-রউফরা বদলে দিতে পারেন সবকিছু! হাসারাঙ্গার লড়াই থামিয়ে জয় পাকিস্তানের
সালমান-রউফরা বদলে দিতে পারেন সবকিছু! হাসারাঙ্গার লড়াই থামিয়ে জয় পাকিস্তানের
শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে যখন বিনা উইকেটে ৮৫ রান তখন সবে মত্র ১২ ওভার শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের সামনে তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা পরাজয়ের গ্লানির। ব্যর্থ হতে চলেছিল সালমান আঘার সেঞ্চুরি। তবে হারিস রউফ আশা হারালেন না, বল হাতে পাল্টা ঝড় তুললেন। শ্রীলঙ্কাকেই দিশেহারা করলেন, এক ঝটকায় বদলে দিলেন সবকিছু। পাকিস্তানকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনলেন।
পাকিস্থান বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্থান করে ২৯৯ রান। জয়ের জন্য ৩০০ রানের পথটা শ্রীলঙ্কা অনেকটা নির্বিঘ্নেই পাড়ি দিচ্ছিল। নাসিম শাহ, শাহীন আফ্রিদিদের নির্বিশ বোলিয় কাজটা আরও সহজ করে দিচ্ছিলেন। পাথুম নিশাঙ্কা আর কামিল মিসারা দুজনেই তখন ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন বোলারদের উপর।
হারিসও তিন ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৯ রান দিয়ে কোনো সুবিধা করে উঠতে পারেননি তখনও। তবে ম্যাজিক নিয়ে হাজির হলেন ১২তম ওভারের পঞ্চম বলে, তুলে নিলেন কামিল মিসারাকে। এর আগের বলটাতেই যিনি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন হারিসকে। এর ঠিক পরের বলেই রউফের শিকার হলেন কুশল মেন্ডিস।
পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে এখানেই রউফের কাজ শেষ হয়নি। পরের ওভারে ফিরে এসেই তুলে নিলেন গলার কাঁটা পাথুম নিশাঙ্কাকে। ব্যস, এক মুহূর্তেই মোমেন্টাম পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে।
হারিস রউফ জেনুইন উইকেটটেকার। আর উইকেটটেকাররা রান দেবেন, এটাই স্বাভাবিক বিষয়। তা সত্ত্বেও এই ধরনের বোলারকে কেন একাদশে দরকার? তার উত্তর রউফ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। যেভাবে শ্রীলঙ্কাকে ধসিয়ে দিলেন, যখন দরকার ব্রেকথ্রু এনে দিলেন—তা আবার বিশ্বাস রাখতে বলল রউফের সক্ষমতার উপর। সেই সঙ্গে আরও একবার প্রমাণ দিরেন, এই ধরনের বোলাররা মুহূর্তেই বদলে দিতে পারেন সবকিছু। অধিনায়ক চারিত আসালাঙ্কা (৩২) ও অলরাউন্ডার জানিত লিয়ানাগেও (২৮) উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন। এক পর্যায়ে ২১০ রানে ৭ উইকেট হারালে মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার হার সময়ের ব্যাপার। কিন্তু এরপর দুষ্মন্ত চামিরা ও তিকশানাকে নিয়ে দারুণ লড়াই করে জয়ের সম্ভাবনা জাগান হাসারাঙ্গা। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর ৫২ বলে ৫৯ রানের ইনিংসটা বৃথা যায়। শেষ পর্যন্ত ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬১ রান দিয়ে রউফের শিকার চার উইকেট। দিনশেষে ওটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে, পাকিস্তান জয় পেয়েছে ৬ রানের ব্যবধানে।
এর আগে টস জিতে পাকিস্থানকে ব্যাটিং এর আমন্ত্রন জানান লংকান অধিনাকয়ক চারিথ আসালাঙ্কা। সালমান আঘার দূর্দান্ত অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯৯ রান করে পাকিস্থান। এছাড়াও ওপেনার ফখর জামান ৩২ রান করেন। বাবার আজমের ব্যাট থেকে আসে ২৯। ব্যর্থ হন রিজওয়ান ও সায়েম আইয়ুব। হুসাইন তালাত ৬২ রান করেন। মোহম্মদ নাওয়াজ ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলংকার হয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্কা ৫৪ রান খরচ করে ৩ টি উইকেট দখল করেন। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ রাওয়ালপিন্ডিতেই আগামী বৃহস্পতিবার।
ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন সালমান আঘা।