সিরাজ বুমরাহদের দাদাগিরি দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব; টেস্টে ৫ম দিনে দাপট দেখিয়ে ১৫১ রানের দারুন জয় তুলে নিলো কোহলির ভারত
টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরুতে সামির ৫৬ এবং বুমরাহর ৩৪ রানের সৌজন্যে ২৯৮ রানে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেছিলো ভারত। ফলে ইংল্যান্ডের টার্গেট দাড়িয়েছিলো ২৭২ রানের। আর শেষ দিকে বিশ্ব দেখলো সিরাজ-বুমরাহদের দাপট। সিরাজ দুই্ ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে কাপিয়ে দেন । প্রথম টেস্টে জয়ের খুব কাছে যেয়েও হাত ছাড় হয় ভারতের। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে ৫ম দিনে দাপট দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে ১২০ রানে অল-আউট করে ১৫১ রানের দারুন জয় তুলে নিলো কোহলির ভারত।
ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে বার্নসকে ফেরান বুমরাহ। শূন্য রানে আউট হন বার্নস। দারুন ব্যাট করার পর এ বার বল হাতেও আগুন ঝরালেন সামি। ডোম সিবলেকে ফেরালেন তিনি। তিনিও শূন্য করে পন্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন। ২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩ রান করে মারাত্নক চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। এর পর সামির বলে সহজ ক্যাচ মিস করেন রোহিত। হাসিব হামিদ একটি সহজ ক্যাচ তুলেছিল। যেটা মিস করেন রোহিত শর্মা। তা না হলে ৩ উইকেট পড়ে যেত ইংল্যান্ডের। তখন দলীয় রান ৬ ওভারে ২ উইকেটে ১২ রান ইংল্যান্ডের।
হামিদের ক্যাচ ফেলাটা কিন্তু বড় ভুল হয়ে যায় ভারতের। ১০ ওভারে ৩২ রান করে ফেলে ইংল্যান্ড। জো রুট ও হামিদ দৃড় প্রত্যয় নিয়ে খেলছিলেন। ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান করে ফেলে ইংল্যান্ড। ভারত তখন বাকি ৮ উইকেট তুলে নিতে পারে কিনা সন্দেহ ছিলো। অবশেষে ইশান্ত শর্মার বলে ৯ রান করে এলবিডব্লিউ হন হাসিব হামিদ। ১৬ ওভারে ৪৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
জো রুটের সাথে জুটি গড়েন জনি বেয়ারস্টো । এই ইনিংসে বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেনি। চতুর্থ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ২ রান করে ইশান্তের বলে এলবিডব্লিউ হন বেয়ারস্টো। ২২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান ইংল্যান্ডের। আরও ৬ উইকেট ফেলতে হবে ভারতে। পারবে কি? উত্তেজনার পারদ জমতে থাকে । জো রুটের সঙ্গে ক্রিজে জোস বাটলার। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া জো রুটকে অবশেষে আউট করতে পারলেন ভারতীয় বোলাররা। বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন জো রুট। বুমরাহর বলে স্লিপে কোহলির হাতে ক্যাচ দেন ব্রিটিশ অধিনায়ক। তখন ইংল্যান্ডের রান ২৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৬৭ ।
ক্রজে তখন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিলেন জোস বাটলার এবং মইন আলি । এই জুটিকে আগে ভাঙতে পারলে জয় অনেকটা নিশ্চিত হতো ভারতের। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস ৩০ ওভারে রান ৫ উইকেটে ৭৫। ম্যাচটা ড্রয়ের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ইংল্যান্ড। বাটলার এবং মইন আলি ২৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। অবশেষে জোড়া ধাক্কা দেন সিরাজ। ৯০ রানের মাথায় বাটলার-মইন আলি জুটি ভাঙ্গেন মহম্মদ সিরাজ। ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন মইন আলি। এর পরের বলেই শূন্য রানে ফিরান স্যাম কুরানকে। ৩৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান ইংল্যান্ডের। হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেছিলেন সিরাজ। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেনি।
জোস বাটলার, অলি রবিনসন চাইছিলেন বাকী ওভার গুলো শেষ করতে। ৪৫ ওভার ৭ উইকেটে ১১২ রান করে ফেলে ইংল্যান্ড। ম্যাচ ড্র করতে হলে তখনও ক্রিজে থাকতে হতো ১৫ ওভার। ভারতরে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ৩ উইকেটর। কিন্তু অলি রবিনসনকে এলবিডাব্লিউ করেন বুমরাহ। কোহলিদের জোরালো আদেনে সাড়া না দিলে রিভিও নেয়। আর তাতেই আসে সাফল্য।
ভারতের জয়ের পথে কাটা হয়ে দাড়ানো জস বাটলারকে কট বিহাইন্ড করে মচ নিজেদের দখলে আনতে সাহায্য করেন মোহাম্মদ সিরাজ। ইংল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই সিরাজ। জেমস এ্যান্ডারসনকে বোল্ট করেন তিনি। ফলে ১২০ রানে অল-আউট হয় ইংরেজরা। ১৫১ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় ভারত।
প্রথম ইনিংসের মতোই দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪টি উইকেট তুলে নেন সিরাজ। এছাড়া বুমরাহ নেন ৩টি ও ইশান্ত শর্মা ২টি এবং সামি নেন ১টি উইকেট।
এর আগে শামি, বুমরারাও যে ব্যাট চালাতে জানেন তা হাড়ে হাড়ে টের পায় ইংল্যান্ড। এটাই টেস্ট ম্যাচের মহত্ব। ক্ষনে ক্ষনে রং পরিবর্তন হতে থাকে। গত কাল যেখানে টেস্ট ড্র করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন পুজারা ও রাহানে। সেখানে পঞ্চম দিন জয়ের জন্য বোলিং এ আগুন ঝরাচ্ছেন শামি, বুমরারা।
এ যেনো ভারতের নতুন ব্যাটিং লাইন। টেল এ্যান্ডাররা যেভাবে খেললেন তা অতুলনীয়। যার কোন উপমা দিয়ে শেষ করা যায় না। দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ দিনেই ছয় উইকেট খুইয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। টেস্টের শেষ দিন তাই ইংলিশ বোলারদের টার্গেট ছিল, দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান পকেটে পুরে ফেলা। কিন্তু তেমনটা হতে দিলেন না ভারতীয় টেল এন্ডাররা। মহম্মদ শামি, জশপ্রীত বুমরাহরা বুঝিয়ে দিলেন, শুধু বল হাতেই তাঁরা বিপক্ষের ত্রাস নন, দরকারে ব্য়াট করতে নেমেও চমকে দিতে পারেন। সোমবার সেই দৃশ্যেরই সাক্ষী হল লর্ডস। যেখানে দুর্দান্ত অর্ধশতরান করে অপরাজিত রইলেন শামি। দিনের শুরুতেই যখন ঋষভ ফিরে গেলো তখন মনে হচ্ছিল ভারতের হার সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১৯৪ রানে পন্ত আউট হওয়ার পর ২০৯ রানে পড়ে অষ্টম উইকেট। একটু পরে ইশান্ত শর্মা যখনি আউট হলেন ভয় খরো হেকে বসলো ভারত শিবিরে। সেখান থেকে ২৮৬ রান করে লাঞ্চ বিরতিতে যায় দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শামি ও জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচ শেষের ৪ ঘণ্টা আগে দ্বিতীয় ইনিংস ডিক্লেয়ার করে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য করতে হতো ২৭১ রান।
চুড়ান্ত রান সংখ্যা:
ইন্ডিয়া: ৩৬৪ ও ২৯৮/৮ ডিক্লেয়ার
ইংল্যান্ড: ৩৯১ ও ১২০ (দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১.৫ ওভার, টার্গেট ২৭২)
১৫১ রানে জয়ী ইন্ডিয়া
সিরিজ: ১-০ (৫ ম্যাচের সিরিজ বাকী ৩টি ম্যাচ)
ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ: কেএল রাহুল