অ্যান্ডারসনদের উপযুক্ত জবাব রোহিত-রাহুলের

লর্ডস টেস্টেও বৃষ্টির বাধা। টসে জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বল করার সিদ্ধান্ত নেন।  অর্থাৎ লর্ডসে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। টস হওয়ার পরেই শুরু হয়ে গেল বৃষ্টি। লর্ডস টেস্টেও পিছন ছাড়ল না বিরাটদের। হালকা বৃষ্টির কারনে  নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ মিনিট পরে শুরু হয় খেলা। ভারতের হয়ে রোহিত শর্মা এবং লোকেশ রাহুল ওপেন করতে নামেন।

ভারতের দুই ওপেনার সতর্ক ভাবেই শুরু করে।  ধীরে ধীরে তাঁরা রান যোগ করে  স্কোরবোর্ডে। ৫ ওভারে তুলে মাত্র ৬ রান ।  ১৮.৪ ওভার খেলা হওয়ার পর বৃষ্টি হানাদেয়। দলীয় রান তখন বিনা উইকেটে ৪৬। রোহিত শর্মা ৩৫ ও কেএল রাহুল ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বৃষ্টির জেরে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে লাঞ্চ বিরতিও ঘোষণা করে আম্পায়ার। তবে বৃষ্টির মাত্রা কম ছিলো। ২১তম ওভারের তিন নম্বর বলে কোন উইকেট না হারিয়ে  দলীয় ৫০ রান পূরণ করে ভারত। তখনও ক্রিজে দুই ওপেনার  রোহিত শর্মা ৪০ এবং কেএল রাহুল ১০ করে অপরাজিত ছিলেন।  কেএল রাহুল মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকে রোহিত। দলীয় ৭১ রানের মধ্যে অর্ধশতরান করে ফেলেন রোহিত শর্মা।  ২৫ ওভারে ভারতের রান কোনও উইকেট না হারিয়ে ৭১।  ভারতের দুই ওপেনারের উপর ভর করেই ৩০ ওভারে ৯১ রান করে ফেলে ভারত। আক্রমনাত্বক ব্যাটিং করে রোহিত একাই ৬৬ রান করে ফেলেন যেখানে রাহুলের সংগ্রহ ১৬ রান।

দর্বার গতিতে এগেয়ে চলা রোহিত শর্মার ৭৫ রানের উপর ভর করে শতরান পূরন হয় ভারতের।  ৩৩ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ১০০। রাহুল একদিক ধরে রাখেন।

ভালোই জবাব দিচ্ছিলেন রোহিত-রাহুল। কিন্তু হঠাৎ ছন্দ পতন।  শতরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিত। কিন্তু ৮৩ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। অ্যান্ডারসনের বলে বোল্ড আউট হন রোহিত। ৪৪ ওভারে ১২৬ রানে প্রথম  উইকেট হারায় ভারত।

রোহিত শর্মা আউট হতেই স্কোরবোর্ডে রান যোগ করার দায়িত্ব কাঁধে নেন কেএল রাহুল। ৪৫তম ওভারে ১০ রান তুলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন চেতেশ্বর পূজারা। ৫০ ওভারে দলীয় ১৫০ রান পূর্ণ হতে বড় ধাক্কা খায় ভারত। চেতেশ্বর পুজারার ফ্লপ শো অব্যাহত থাকে। ২৩ বল খেলে মাত্র ৯ রান করে অ্যান্ডারসনের বলে স্লিপে ক্যাচ দেয়ে ফেরেন পুজারা।

এর পরপর কেএল রাহুল পাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বিরাট কোহলি ও কেএল রাহুল টি-ব্রেক পর্যন্ত দলীয় স্কোর গড়ে ২ উইকেটে ১৫৭ রান।

এর আগে শার্দুল ঠাকুরের বদলে দলে জায়গা হয় ইশান্ত শর্মার। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো স্পিনারকে কেন খেলানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনেকেরই দাবি, এর পিছনে কোনও দলীয় রাজনীতি নেই তো? এ দিকে ইংল্যান্ড টিমেও তিনটি পরিবর্তন এসেছে। চোট পেয়ে স্টুয়ার্ড ব্রড ছিটকে যাওয়ায় মার্ক উডের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। সে রকমই হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাটিং লাইন আপে আরও দু’টি পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম টেস্টে জ্যাক ক্রাউলে চূড়ান্ত ফ্লপ। তাঁর জায়গায় হাসিব হামিদকে খেলানো হচ্ছে। আর ডান লরেন্সকে বসিয়ে খেলানো হচ্ছে মইন আলিকে।

ভারতের প্রথম একাদশ:

রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, চেতেশ্বর পূজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), অজিঙ্কা রাহানে, ঋষভ পন্ত (উইকেটকিপার), রবীন্দ্র জাদেজা, জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা, মহম্মদ সিরাজ।

ইংল্যান্ডের প্রথম একাদশ:

রোরি বার্নস, ডম সিবলে,  হাসিব হামিদ, জো রুট (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো, জোস বাটলার (উইকেটকিপার), মইন আলি, স্যাম কুরান, অলি রবিনসন,  মার্ক উড, জেমস অ্যান্ডারসন।

Leave a Reply