পয়েন্টে সমান ; তবুও রান রেটের মারপ্যাঁচে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মানদণ্ড হিসেবে নেট রান রেট (NRR) দেখা হয়। পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি শুরুর আগেই সমীকরণটি স্পষ্ট ছিল—নিউজিল্যান্ডের রান রেট পাকিস্তানের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে ছিল। নিউজিল্যান্ড ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট এবং +১.৩৯০ রান রেট নিয়ে তাদের গ্রুপ পর্ব শেষ করে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই কঠিন সমীকরণ
পাকিস্তানকে নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালে যেতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুধু জিতলেই হতো না, বরং বিশাল ব্যবধানে জিততে হতো। সমীকরণটি ছিল এমন:
- পাকিস্তান ২১২ রান সংগ্রহ করার পর, নিউজিল্যান্ডের রান রেটকে টপকাতে হলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো (অর্থাৎ অন্তত ৬৫ রানে জিততে হতো)।
- কিন্তু শ্রীলঙ্কা যখন ১৫.৫ ওভারে ১৪৮ রান পার করে ফেলে, তখনই গাণিতিকভাবে পাকিস্তানের নেট রান রেট নিউজিল্যান্ডের নিচে নেমে যায় এবং তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
শানাকার ইনিংস ও পাকিস্তানের ট্র্যাজেডি
ম্যাচটিতে পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী হয়, যার ফলে তাদের মোট পয়েন্ট ৩-এ পৌঁছায় (নিউজিল্যান্ডের সমান)। কিন্তু দাসুন শানাকার ৩১ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি শ্রীলঙ্কাকে ২০৭ রান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। এতে পাকিস্তানের জয়ের ব্যবধান মাত্র ৫ রানে নেমে আসে, যা তাদের রান রেটকে প্লাসে (+) নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। গ্রুপ পর্ব শেষে পাকিস্তানের নেট রান রেট দাঁড়ায় –০.১২৩।
সহজ কথায়, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সমান ১টি জয়, ১টি হার এবং ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচের মাধ্যমে ৩ পয়েন্ট পেলেও, নিউজিল্যান্ড তাদের জয়টি পেয়েছিল বড় ব্যবধানে। অন্যদিকে পাকিস্তান তাদের জয়টি পেয়েছে অত্যন্ত স্বল্প ব্যবধানে, যা তাদের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দেওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ম্যাচে তৈরি হয়েছে একাধিক রেকর্ড:
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ওপেনার
সাহিবজাদা ফারহান ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করে বিরাটের ১২ বছর পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
২০১৪ সালে ভারতের বিরাট কোহলি এক বিশ্বকাপে ৩১৯ রান করে যে রেকর্ড গড়েছিলেন, ফারহান তা অতিক্রম করেছেন।
- ফারহানের মোট রান (২০২৬): ৩৮৩
- কোহলির রেকর্ড (২০১৪): ৩১৯
- গড় ও স্ট্রাইক রেট: ৭৬.৬০ গড় এবং প্রায় ১৫৮ স্ট্রাইক রেটে তিনি এই রান করেছেন ।
একক আসরে দুটি সেঞ্চুরি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফারহানই প্রথম ব্যাটার, যিনি একটি মাত্র আসরে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এর আগে ক্রিস গেইল দুটি সেঞ্চুরি করলেও সেগুলো ছিল আলাদা আলাদা বিশ্বকাপে (২০০৭ ও ২০১৬)।
- প্রথম সেঞ্চুরি: নামিবিয়ার বিপক্ষে (৫৮ বলে ১০০*)
- দ্বিতীয় সেঞ্চুরি: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (৬০ বলে ১০০)
ছক্কার রেকর্ড
ফারহান এই টুর্নামেন্টে মোট ১৮টি ছক্কা মেরেছেন, যা এক আসরে কোনো ব্যাটারের জন্য সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড । তিনি শিমরন হেটমায়ারের ১৭টি ছক্কার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যান ।
ফখর জামানের সাথে ঐতিহাসিক জুটি
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফারহান ও ফখর জামান (৮৪ রান) মিলে ওপেনিং জুটিতে ১৭৬ রান যোগ করেন । এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।