বুমরাহর আগুনে পুড়লো ইংল্যান্ড; নিশ্চত জয় পেতে চলেছে ভারত:

আগের দিনের বিনা উইকেটে ২৫ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। লক্ষ্য ভারতের সামনে বড় টার্গেট দেওয়া। এ দিন শুরুতেই ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটিকে ভাঙা ভারতের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। আর সেই কাজটাই করলেন মহম্মদ সিরাজ। শুরুতেই রোরি বার্নসকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে বড় ধাক্কা দিল মহম্মদ সিরাজ। দলের ৩৭ রানের মাথায় ১৮ রান করে ঋষভ পন্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন বার্নস।  এর পর জ্যাক ক্রাউলেকে ৬ রান  ফেরান জসপ্রীত বুমরাহ। পন্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ক্রাউলে। ১৭ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান দাড়াই ইংল্যান্ডের।

জো রুট নামার পর থেকেই স্কোরবোর্ডে রানের গতি বেড়ে যায়। ২ উইকেট হারানোর চাপ সামলে ধীরে ধীরে ভারতের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করে ইংল্যান্ড। ৩৩ ও ভারের প্রথম বলেই জো রুট চার মেরে ভারতের লিড স্পর্শ করে ফেলে। এর পর ৩৪ ওভারে সেই ৯৫ রানের লিড পার করে নিজেদের টার্গেট গড়তে শুরু করে ইংল্যান্ড। রুট-সিবলে জুটি  ভারতকে বড় সমস্যায় ফেলে দেই।

জো রুট ৭১ বলে  অর্ধশতরান পূর্ণ করেন।   ইংল্যান্ডের রান ৩৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৮ ।

ভারতের থেকে তখন ২৪ রানেএগিয়ে ইংল্যান্ড। ১৩৫ রানে ব্রেক থ্রু এন দেন জসপ্রীত বুমরাহ।  পন্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডোম সিবলে। ওপেন করতে নেমে সিবলে উইকেট আঁকড়ে পড়েছিলেন। তবে রান করেন মাত্র ২৮।  ৪৬ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ৩ উইকেটে ১৩৫ রান।

সিবলে আউট হওয়ায় একটু সতর্ক হয়ে খেলছেন জো রুট (৭৬) এবং জনি বেয়ারস্টো (৮ রানে। তবে স্কোরবোর্ড তাঁরা সচলই রেখেছেন। ৩ উইকেট হারিয়েও ৫০ ওভারে স্কোর ১৪৮ । ৩০ রান করে আউট হলেন জনি বেয়ারস্টো। মহম্মদ সিরাজের বলে বেয়ারস্টোর ক্যাচ ধরেন রবীন্দ্র জাদেজা।

ড্যান লরেন্সকে এলবিডব্লিউ করেন শার্দুল ঠাকুর। ২৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন লরেন্স। ৬৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান ইংল্যান্ডের।

অধিনায়কোচিত ইনিংস জো রুট। একা দায়িত্ব নিয়ে ইংল্য়ান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন ব্রিটিশ অধিনায়ক। এটি ২১তম শতরান চলে আসে তার ব্যাট থেকে।   দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০-এর গন্ডি পার করে ইংল্যান্ড।

জো রুটের সাথে স্যাম কুরান ভালোই খেলছিলো। ৬ উইকেট হারালেও বড় রানের লক্ষ্যে লড়াই চালাচ্ছিলেন দুই ব্রিটিশ ক্রিকেটার। ৮০ ওভারে ইতিমধ্যেই ২৭২ রান করে ফেলে ইংল্যান্ড।  কিন্তু ১০৯ রান করে থামতে হয় জো রুটকে। তাঁকে ফেরান জসপ্রীত বুমরাহ। পন্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ব্রিটিশ অধিনায়ক। ৮১ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ৭ উইকেট ২৭৪  ।

ব্যাক্তিগত ৩২ ও দলীয় ২৯৫ রানের মাথায় বুমরাহর বলে আউট হন স্যাম কারান। তার পরের বলেই স্টুয়ার্ট ব্রডকে বোল্ট করেন বুমরাহ । রান ৯ উইকেটে ২৯৫।  দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম উইকেটের দেখা পান মুহাম্মদ শামি। শেষ উইকেট হিসেবে ইংল্যান্ডের অলি রবিনসনের উইকেটটি তুলে নেন সামি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। ইংল্যান্ড অলআউট হন ৩০৩ রানে। ফলে ভারতের চেয়ে  ২০৮ রানে এগিয়ে থেমে যায় ইংল্যান্ড। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ সর্বোচ্চ ৫টি উইকেট দখন করেন। এছাড়া সিরাজ ২টি শার্দূল ২টি ও মোহম্মদ সামি নেন ১টি উইকেট । জয়ের জন্য ২০৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামেন কেএল রাহুল ও রোহিত শর্মা। দিনের খেলা তখনও ২২ ওভার বাকী ছিলো। কিন্তু খেলা হয় ১৪ ওভারের।

কেএল রাহুলকে হারালেও জয়ের সুবাতাস পেতে শুরু করেছে ভারত।  চতুর্থ দিন শেষ ভারতের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান  ।  পঞ্চম তথা শেষ দিনে জয়ের জন্য কোহলিদের প্রয়োজন ১৫৭ রানের। হাতে আছে ৯ উইকেট। রোহিত ও পুজারা প্রত্যেকে ১২ রানে ক্রিজে আছেন।

চুড়ান্ত রান সংখ্যা:

ইংল্যান্ড: ১৮৩/১০ ও ৩০৩/১০

ভারত : ২৭৮/১০ ও ৫২/১

Leave a Reply