কোহলির আক্ষেপ; জেতা ম্যাচটি ড্র হলো বৃষ্টিতে

এক বলও খেলা হল না। পয়া ট্রেন্ট ব্রিজে এ বার টেস্ট জয়ের হ্যাটট্রিক করতে পারল না ভারত। খেলার পঞ্চম দিনে বাধ সাধলো খারাপ আবহাওয়া ও বৃষ্টি। ফলে মাঠেই নামতে পারল না বিরাট কোহলীর ভারত। দিনের প্রথম দুই সেশন বৃষ্টির জন্য ধুয়ে যাওয়ার পরেও খেলার আশা জেগেছিল। কিন্তু চা পানের বিরতির পর আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ার জন্য টেস্ট অমীমাংসিত ভাবে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন দুই আম্পায়ার। স্বভাবতই বিরক্ত বিরাট কোহলী। জেতা ম্যাচ ড্র করার আক্ষেপ ভুলতে পারছেন না তিনি। মুখে চওড়া হাসি নিয়েও নিজের কথা বললেন ক্যাপ্টেন।

ম্যাচের পর পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে এসে কোহলি বলেন, “আমরা তিন এবং চার দিনে বৃষ্টির প্রত্যাশা করছিলাম কিন্তু এটি পাঁচ দিনে আসতে বেছে নিয়েছিল। এটা খেলতে এবং দেখার জন্য উপভোগ্য হত, কিন্তু এটি একটি লজ্জার বিষয়। এটা ঠিক আমরা কি করতে চেয়েছিলাম; শক্তিশালী শুরু। পঞ্চম দিনে আমরা জানতাম আমাদের সুযোগ আছে। আমরা অবশ্যই অনুভব করেছি যে আমরা খেলার শীর্ষে ছিলাম। সেই লিড পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু এটা লজ্জাজনক যে আমরা পাঁচ দিন শেষ করতে পারিনি। রাতারাতি পঞ্চাশে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

এরপর বিরাট বলেন, “আমরাড্র চাইনি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো ম্যাচে থাকা। ব্যাট ও বল হাতে কঠিন পরিশ্রম করেছি। আমরা লিডের কথা চিন্তা করেছিলাম।  কিন্তু আমরা ৯৫ এর বেশী লিড দিতে পারিনি। তবুও এই রান ছিলো খুবই মূল্যবান।  সম্ভবত এই সিরিজে এটি আমাদের মবোবল বাড়াবে।

 

খারাপ আবহাওয়া ভারতের জয়ে বাধা; সারাদিন যা হলো:

পঞ্চম দিনে ট্রেন্ট ব্রিজের আকাশ ছিলো মেঘলা। বৃষ্টির সম্ভাবনাও ছিলো। ফলে মাঝেমধ্যেই খারাপ আবহাওয়া ম্যাচে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা ছিলো। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস ছিলো সারাদিন ধরেই হয়তো বৃষ্টি চলবে।  হলোও তাই। দুই দল মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকলেও উপায় ছিলোনা বৃষ্টির কারনে। লাঞ্চের আগে খেলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেইনি।  এমনকি লাঞ্চের পরেও খেলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো খুবই কম ।

২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চেন্নাই টেস্টের স্মৃতি উঠে আসে। সেই টেস্ট জিততে হলে ভারতের দরকার ছিল ২২৯ রান। চতুর্থ দিন ১৯ রান তুলে সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন দুই ওপেনার বীরেন্দ্র সহবাগ ও যুবরাজ সিংহ। তবে পঞ্চম দিন আর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। কারণ বৃষ্টির জন্য ম্যাচ ভেসে যায়।

লাঞ্চের পরেও বৃষ্টি থামার কোন লক্ষন দেখা যাইনি। টানা বৃষ্টি ও মন্দ আলোর জন্য প্রথম সেশনের খেলা বাতিল করে দুই আম্পায়ার। সঙ্গে ছিলেনৈ দুই অধিনায়ক বিরাট কোহলী ও জো রুট। শেষ দিন ক্রিকেট প্রেমীরা শেষ দিন টানটান লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, শেষ মেষ তা হয় কিনা সন্দেহ তৈরি হয়।

অবশেষে বৃষ্টি থামার পর পিচের কভার সরানোর কাজ করেন মাঠ কর্মীরা। ভারতীয় সময় অনুসারে সন্ধে ৭টা নাগাদ আবার মাঠ পরীক্ষা করার কথা ছিলো দুই আম্পায়ারের। এরপর শেষ দিনের খেলা শুরু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। কত ওভারের খেলা হয় এখন সেটাই দেখার ছিলো।  কিন্তু আবারো বাঁধ সাধে বৃষ্টি । দুই আম্পায়ারের মাঠ পরিদর্শন করার কথা থাকলেও সেটা পিছিয়ে যায়। সিদ্ধান্ত হয় বৃষ্টি থামলে ফের মাঠে নামবেন দুই আম্পায়ার।

চা পানের বিরতির পরও খেলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া কাটিয়ে ভারত প্রথম টেস্ট জেতার সুযোগ হাতছাড়া হতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ভিলেন হয়ে থাকলো বৃষ্টি।  ট্রেন্ট ব্রিজ পঞ্চম দিনে একটিও বল গড়ালোনা। ফলে ম্যাচের ফলাফল ড্র । খুব কাছে এসেও বিরাট কোহলীর ভারতের প্রথম টেস্ট জেতার স্বাদ পেলোনা । চা পানের বিরতির পর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন দুই আম্পায়ার।

বৃষ্টির জেরে এক বলও খেলা হল না পঞ্চম দিন, ফলে  ড্র হল প্রথম টেস্ট। এর আগে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনের খেলা বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় অনেক অংশ। চতুর্থ দিনে অবশ্য পুরো খেলাই হয়েছিল। চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডকে ৩০৩ রানে অল আউট করেছিল ভারত। জিততে হলে মোট ২০৯ রানে করতে হত ভারতকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত খেলতে নেমে কেএল রাহুলের উইকেট হারিয়েছিল। তবে ৫২ রানও তারা স্কোরবোর্ডে যোগ করেছিল তারা। দরকার ছিল আরও ১৫৭ রান। তবে বৃষ্টির জেরে পঞ্চম দিনের খেলাই পুরো ভেস্তে গেল।

চূড়ান্ত রান সংখ্যা:

ইংল্যান্ড: ১৮৩ রানে অল-আউট; রুট ৬৪;  বুমরাহ ৪৬ রানে ৪ উইকেট।

এবং ৩০৩ রানে অল-আউট; রুট ১০৯, বুমরাহ ৬৪ রানে ৫ উইকেট।

ভারত: ২৭৮ রানে অল-আউট; কেএল রাহুল ৮৪; অলি রবিনসন ৮৫ রানে ৫ উইকেট  এবং ১ উইকেটে ৫২।  কেএল রাহুল ২৬, ব্রড ১৮ রানে  ১ উইকেট।

ফলাফল: ম্যাচ ড্র।

Leave a Reply